রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ০৩:৫৩ অপরাহ্ন
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার গয়টাপাড়া ও ভন্দুরচর সীমান্তের শূন্যরেখায় টানা ছয় দিন ধরে অবস্থান করছেন বিএসএফের পুশইন চেষ্টার শিকার পাঁচ যুবক। ঝড়-বৃষ্টি, তীব্র রোদ এবং অনিশ্চয়তার মধ্যে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা। সামান্য পলিথিনের ছাউনিই তাদের একমাত্র আশ্রয়। খাবার, গোসল ও ন্যূনতম স্যানিটেশন সুবিধার অভাবে দিন দিন তাদের দুর্ভোগ বাড়ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে গয়টাপাড়া সীমান্তের শূন্যরেখায় দুইজন এবং ভন্দুরচর সীমান্তে তিনজন অবস্থান করছেন। তাদের ঘিরে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিজিবি ও বিএসএফ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
জানা গেছে, গত ১৪ জুন সকালে গয়টাপাড়া সীমান্ত দিয়ে দুই শিশু ও তাদের বাবা-মাসহ ছয়জন এবং ভন্দুরচর সীমান্ত দিয়ে তিন যুবককে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। বিষয়টি টের পেয়ে বিজিবি ও স্থানীয় বাসিন্দারা বাঁধা দিলে তারা দুই দেশের মধ্যবর্তী শূন্যরেখার ভারতীয় অংশে অবস্থান নিতে বাধ্য হন।
তবে গত বুধবার সকাল থেকে দুই শিশু ও তাদের বাবা-মায়ের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। স্থানীয়দের ধারণা, রাতের আঁধারে তাদের অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে কোনো তথ্য নিশ্চিত করতে পারেনি বিজিবি।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, দিনের পর দিন খোলা আকাশের নিচে অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকা এসব মানুষের মানবিক সংকট ক্রমেই গভীর হচ্ছে। মানবিক বিবেচনায় দ্রুত দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আলোচনার মাধ্যমে তাদের পরিচয় যাচাই, ভবিষ্যৎ নির্ধারণ এবং নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে জামালপুর ৩৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান বলেন, “বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য বিএসএফের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়েছে। তবে তাদের ফেরত নেওয়ার বিষয়ে বিএসএফ এখন পর্যন্ত কোনো আগ্রহ দেখায়নি।”
সীমান্ত এলাকায় আটকে থাকা ব্যক্তিদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে।