রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ০২:২৪ অপরাহ্ন

শিরোনাম
ফুলবাড়ীতে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার ওপর যুবদল নেতার হামলা কুড়িগ্রামে আওয়ামীলীগের সাংগাঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ গ্রেপ্তার চাঁদাবাজির বিরোধিতার জেরে কুড়িগ্রামে বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ জাতীয় পর্যায়ে কৃতিত্ব: মেধাবী শিক্ষার্থী তাহসিন আবরার জারিফকে জেলা ছাত্রদলের সংবর্ধনা বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই করছে তিস্তার পানি- ডুবতে যাচ্ছে যেসব জেলা ভূরুঙ্গামারীর পাইকেরছড়া ইউনিয়নকে দুধকুমরের গ্রাস থেকে রক্ষা ও চর মন্ত্রণালয়ের দাবিতে মাসববন্ধন হিজবুল্লাহর হামলায় কমান্ডারসহ ৪ ইসরাইলি সেনা নিহত রৌমারী সীমান্তে শূন্যরেখায় ছয় দিন ধরে আটকে ৫ যুবক, বাড়ছে মানবিক সংকট রাজারহাটে রেললাইনে বালুভর্তি ট্রাক দুর্ভোগে অগনিত ট্রেন যাত্রী এক বছরের মধ্যে দেশের সকল চা শ্রমিককে ফ্যামিলি কার্ড দেয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী

কুড়িগ্রামে বাণিজ্য মেলা বন্ধে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি / ৫১৪ Time View
Update Time : রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ০২:২৪ অপরাহ্ন

কুড়িগ্রামে প্রস্তাবিত বাণিজ্য মেলা স্থগিত বা বাতিলের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছে জেলার একটি সামাজিক সংগঠন। একই সঙ্গে মেলা আয়োজনের অনুমোদন প্রক্রিয়া, আয়োজক নির্বাচন এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক বিষয়াদি তদন্তের দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি।
সম্প্রতি কুড়িগ্রাম জেলা উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সাইয়েদ আহমেদ বাবুর স্বাক্ষরিত এক আবেদনে এসব দাবি জানানো হয়। আবেদনের অনুলিপি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, রংপুর বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, কুড়িগ্রাম দেশের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ ও পিছিয়ে থাকা জেলা। প্রতিবছর বন্যা, নদীভাঙন, দারিদ্র্য ও বেকারত্বের সঙ্গে লড়াই করে এখানকার মানুষ জীবনযাপন করে। সম্প্রতি ভারী বর্ষণ ও নদীভাঙনের কারণে অনেক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষকদের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।
এমন পরিস্থিতিতে বাণিজ্য মেলার আয়োজনকে সময়োপযোগী নয় বলে দাবি করেন আবেদনকারীরা। তাদের মতে, জেলার মানুষের প্রধান চাহিদা হচ্ছে নদীভাঙন প্রতিরোধ, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য কার্যকর সহায়তা নিশ্চিত করা। এসব মৌলিক সমস্যা উপেক্ষা করে মেলা আয়োজন জনমনে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

আবেদনে আরও বলা হয়, অতীতের অভিজ্ঞতায় এ ধরনের মেলা থেকে স্থানীয় অর্থনীতি বা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা প্রত্যাশিত সুফল পান না। বরং কিছু ব্যক্তি বা গোষ্ঠী আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ পায় বলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ধারণা রয়েছে। এছাড়া মেলার সময় মাদক, জুয়া, লটারি, কিশোর অপরাধ, চুরি ও ছিনতাইয়ের মতো সামাজিক সমস্যার বিস্তার ঘটতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
সংগঠনের পক্ষ থেকে পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়েছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—প্রস্তাবিত বাণিজ্য মেলার অনুমোদন পুনর্বিবেচনা, অনুমোদন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষ তদন্ত, সম্ভাব্য অনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক প্রভাব মূল্যায়ন এবং জেলার প্রকৃত সমস্যা সমাধানে সরকারি উদ্যোগ জোরদার করা।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সাইয়েদ আহমেদ বাবু বলেন, “কুড়িগ্রামের মানুষ বর্তমানে নানা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আমরা মনে করি, এই সময়ে মেলার চেয়ে মানুষের মৌলিক সমস্যা সমাধানকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। জনস্বার্থ বিবেচনায় আমরা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি।”
অন্যদিকে মেলা আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ও কুড়িগ্রাম জেলা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির আহ্বায়ক আব্দুল আজিজ। তিনি বলেন, “কুড়িগ্রামের মানুষের জন্য একটি সুস্থ, নিরাপদ ও পরিবারবান্ধব বিনোদনের পরিবেশ সৃষ্টি করাই এই মেলার মূল উদ্দেশ্য। পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের পণ্য প্রদর্শনের সুযোগ এবং জেলার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে গতিশীল করাও আমাদের লক্ষ্য।”

তিনি আরও বলেন, “আগামী ২০ জুনের মধ্যে মেলার আয়োজন সম্পন্ন করার প্রস্তুতি চলছে।

প্রস্তাবিত বাণিজ্য মেলাকে ঘিরে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা চললেও বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে জনমত বিভক্ত দেখা গেছে। এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই নজর কুড়িগ্রামবাসীর।

এ ব্যাপারে কথা হলে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, “আমরা পুলিশের মাধ্যমে তদন্ত করে নিয়ম মেনে মেলার অনুমোদন দিয়েছি। নিয়মের ব্যত্যয় ঘটলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, “কুড়িগ্রামের উন্নয়নের জন্য মেলার অনুমোদন দেয়া হয়েছে। কোন একটি পক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে সেটির বিরোধিতা করছে।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *