সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ০৭:২০ অপরাহ্ন

শিরোনাম
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান ‘শান্তিচুক্তি’: অবশেষে খুলছে হরমুজ প্রণালি কাঁঠাল পাড়তে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ব্যবসায়ীর মৃত্যু রৌমারী সীমান্তে ৬জনকে পুশইনের চেষ্টা সতর্ক অবস্থানে বিজিবি-গ্রামবাসী ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অটোরিকশা ছিনতাই : ভূরুঙ্গামারীতে অন্তর ও মাসুদ গ্রেফতার প্রথম ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনা ভক্তদের জন্য সুখবর সল্প সময়ের জন্য ভোগান্তি পোহাতে হলো ফেসবুক ব্যবহারকারীদের দৌলতপুর সীমান্তে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ, ১২ জনকে ফেরত পাঠাল বিজিবি কুড়িগ্রামে তীব্র বজ্রপাতের সতর্কতা, নিরাপদে থাকার আহ্বান জোরদার কুড়িগ্রামে আবারো তেঁতুল গাছের মগডালে বসে আছে সেই ভাইরাল নারী, দেখতে উৎসুক মানুষের ভীড় চিলমারীতে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা প্রিন্সের উপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল

চর বিষয়ক পৃথক মন্ত্রণালয় ও বাজেটের দাবি কুড়িগ্রামে সংবাদ সম্মেলন; নদীভাঙনে ১০ বছরে গৃহহীন এক লাখ মানুষ

কুড়িগ্রাম - জেলা প্রতিনিধি / ১০ Time View
Update Time : সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ০৭:২০ অপরাহ্ন

চরাঞ্চলের মানুষের টেকসই উন্নয়ন, পুনর্বাসন ও সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করতে চর বিষয়ক পৃথক মন্ত্রণালয় গঠন এবং জাতীয় বাজেটে চরাঞ্চলের জন্য আলাদা ও স্থায়ী বরাদ্দের দাবি জানিয়েছে জেলা চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদ। একই সঙ্গে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নীতিমালা প্রণয়নেরও দাবি জানানো হয়েছে।
সোমবার দুপুরে কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, কুড়িগ্রাম দেশের অন্যতম বৃহৎ চরাঞ্চল অধ্যুষিত জেলা। জেলায় প্রায় ৪ শতাধিক চর রয়েছে, যার মধ্যে আড়াই শতাধিক চরে মানুষের বসবাস। এসব চরাঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙন, দারিদ্র্য, যোগাযোগ সংকট এবং মৌলিক নাগরিক সুবিধার অভাবে অবহেলিত ও বঞ্চিত জীবনযাপন করছে।
সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ বছরে কুড়িগ্রামে প্রায় এক লাখ মানুষ নদীভাঙনের কারণে গৃহহীন হয়েছে। নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো শুধু বসতভিটাই হারায়নি, হারিয়েছে জীবিকা, শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তাও। প্রতিবছর নতুন নতুন পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়ে অনিশ্চিত জীবনের মুখোমুখি হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জাতিসংঘের অভিবাসন বিষয়ক সংস্থা International Organization for Migration (IOM)–এর তথ্যমতে, প্রতিবছর ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে কুড়িগ্রাম জেলার অন্তত পাঁচ হাজার পরিবার অভ্যন্তরীণ স্থানান্তরের শিকার হয়। এ ছাড়া গত পাঁচ বছরে নদীভাঙনের কারণে প্রায় দুই হাজার পরিবার স্থায়ীভাবে ঢাকা, ঠাকুরগাঁও ও পার্বতীপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলে গেছে।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, শুধু কুড়িগ্রাম নয়, দেশের ৩২টি জেলার প্রায় ১০০টি উপজেলার চর ও নদীতীরবর্তী এলাকায় প্রায় দুই কোটি মানুষের বসবাস। এই বিপুল জনগোষ্ঠী কৃষি উৎপাদন, মৎস্যসম্পদ ও জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও উন্নয়নের মূলধারা থেকে এখনো অনেকটাই বিচ্ছিন্ন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, “দেশের উন্নয়নের নানা সূচকে অগ্রগতির কথা বলা হলেও চরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান এখনো কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। চরবাসীর উন্নয়নকে সাধারণ উন্নয়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে নয়, বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। এজন্য পৃথক মন্ত্রণালয় ও আলাদা বাজেট সময়ের দাবি।”
তিনি বলেন, “বিশ্বের বিভিন্ন দেশ, বিশেষ করে Netherlands, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য কার্যকর পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থা চালু করেছে। কিন্তু বাংলাদেশে নদীভাঙনে সর্বস্ব হারানো মানুষের জন্য এখনো কোনো স্থায়ী ও সমন্বিত নীতিমালা নেই। ফলে হাজার হাজার পরিবার প্রতিবছর নতুন করে দারিদ্র্যের ফাঁদে পড়ছে।”
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল হক রুবেল বলেন, “চরাঞ্চলের উন্নয়নকে আর প্রান্তিক কোনো বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। দেশের প্রায় দুই কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকা এই অঞ্চলের সঙ্গে সম্পৃক্ত। জাতীয় উন্নয়নের স্বার্থেই চরবাসীর জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “নদীভাঙন শুধু ভূমি হারানোর ঘটনা নয়, এটি একটি মানবিক ও অর্থনৈতিক সংকট। প্রতিবছর হাজার হাজার পরিবার বাস্তুচ্যুত হচ্ছে। অনেক পরিবার শহরমুখী হচ্ছে, শিশুরা শিক্ষার সুযোগ হারাচ্ছে। তাই চরাঞ্চলের উন্নয়ন ও পুনর্বাসনের বিষয়টি জাতীয় অগ্রাধিকারে আনতে হবে।”
সংবাদ সম্মেলন থেকে সাত দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—চর বিষয়ক পৃথক মন্ত্রণালয় গঠন, জাতীয় বাজেটে চরাঞ্চলের জন্য আলাদা ও স্থায়ী বরাদ্দ, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নীতিমালা, চরাঞ্চলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও কর্মসংস্থানে বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ এবং চরবাসীর টেকসই উন্নয়নের জন্য দীর্ঘমেয়াদি রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা বাস্তবায়ন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- সংগঠনের সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ খাজা শরীফ উদ্দিন রিন্টু, সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ শাহ আলম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইয়েদ আহমেদ বাবু, নারী ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক নাজমুন নাহার বিউটিসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতারা।
বক্তারা বলেন, চরবাসীর এই দাবি কোনো অনুগ্রহ বা দয়ার আবেদন নয়; এটি তাদের ন্যায্য অধিকার। দেশের উন্নয়নের ধারায় চরাঞ্চলকে সম্পৃক্ত করতে হলে এখনই কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যথায় নদীভাঙন ও দারিদ্র্যের কারণে চরাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *