শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ০৪:১৮ অপরাহ্ন
কুড়িগ্রামে বাণিজ্য মেলায় আসা দর্শনার্থীদের বিরুদ্ধে বাস ভাঙচুর ও শ্রমিকদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ বাস শ্রমিকরা জেলা শহরের শাপলা চত্বরে প্রায় তিন ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন। এতে দূরপাল্লার নৈশকোচ ও ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনের দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। চরম দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাত ৯টা থেকে একাধিক বাস সড়কে আড়াআড়িভাবে রেখে অবরোধ শুরু করেন শ্রমিকরা। পরে পুলিশ ও শ্রমিক নেতাদের আশ্বাসে রাত ১১টার দিকে সাময়িকভাবে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।

আন্দোলনরত শ্রমিকদের দাবি, ভুরুঙ্গামারী থেকে যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে আসা ‘মা নাদিয়া পরিবহন’ বাসটি জেলা শহরের ধরলা সেতু এলাকায় পৌঁছালে বাণিজ্য মেলা থেকে বের হওয়া ৫-৭ জন উঠতি বয়সী যুবক রাস্তায় দাঁড়িয়ে বাসটি থামানোর চেষ্টা করে। চালক বাস না থামিয়ে ধরলা সেতু পার হয়ে টোল প্লাজায় টোল দেওয়ার সময় ওই যুবকেরা বাসটিতে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে ভাঙচুর চালায়।
পরে জেলা শহরের রিভার ভিউ মোড় ও জেলা শিল্পকলা একাডেমির সামনে দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফায় বাসটির চালক, সুপারভাইজার ও হেলপারকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন শ্রমিকরা। এতে তিনজনই গুরুতর আহত হন।
এ ঘটনার প্রতিবাদে বাস শ্রমিকরা শাপলা চত্বরে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এ সময় শ্রমিকরা বাণিজ্য মেলাকে ‘উচ্ছৃঙ্খল, চাঁদাবাজ ও বখাটে যুবকদের অভয়ারণ্য’ আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে মেলা বন্ধ এবং হামলা ও ভাঙচুরে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
শ্রমিক নেতা মো. হাসান মিয়া বলেন, “বাণিজ্য মেলা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। গাড়ি ভাঙচুর ও শ্রমিকদের ওপর হামলায় জড়িতদের আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করা না হলে আবারও বাস ধর্মঘটের মাধ্যমে কুড়িগ্রাম অচল করে দেওয়া হবে।”
কুড়িগ্রাম সদর থানার অফিসার ইনচার্জ কামাল হোসেন বলেন, “বাস ভাঙচুর ও শ্রমিকদের ওপর হামলার ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। আর বাণিজ্য মেলা বন্ধের বিষয়টি জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের বিষয়। মেলা বন্ধের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবেন।”
পুলিশের আশ্বাসে রাত ১১টার দিকে শ্রমিকরা অবরোধ প্রত্যাহার করলে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। তবে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার না হলে ফের কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শ্রমিকরা।