সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১০:১২ অপরাহ্ন
কুড়িগ্রামের প্রধান নদ-নদীগুলোর মধ্যে ধরলা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্রের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। অন্যদিকে তিস্তা নদীর পানি কিছুটা কমেছে। পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় জেলার বিভিন্ন নদীতীরবর্তী এলাকায় নদীভাঙন শুরু হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এতে চরাঞ্চল ও নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো), কুড়িগ্রামের আজ সোমবার দুপুর ১২টার তথ্য অনুযায়ী, জেলার সব নদ-নদীর পানি এখনও বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও কয়েকটি পয়েন্টে পানি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, দুধকুমার নদের ভূরুঙ্গামারী পাটেশ্বরী পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ৫৮ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে। সেখানে পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ২৯ দশমিক ০২ মিটার।
ধরলা নদীর কুড়িগ্রাম সদর সেতু পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ১৬৮ সেন্টিমিটার নিচে এবং ফুলবাড়ী তালুক শিমুলবাড়ী পয়েন্টে ১৩৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। দুই পয়েন্টে পানির সমতল যথাক্রমে ২৪ দশমিক ৩৭ মিটার ও ২৯ দশমিক ৫২ মিটার।
ব্রহ্মপুত্র নদের চিলমারী পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ১৫৭ সেন্টিমিটার নিচে এবং নাগেশ্বরীর নুনখাওয়া পয়েন্টে ১৭৯ সেন্টিমিটার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে। এ দুই পয়েন্টে পানির সমতল যথাক্রমে ২১ দশমিক ৬৮ মিটার ও ২৬ দশমিক ২৬ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে।
অন্যদিকে তিস্তা নদীর কাউনিয়া পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ৪৯ সেন্টিমিটার নিচে এবং ডালিয়া ব্যারেজ পয়েন্টে ৩৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সেখানে পানির সমতল যথাক্রমে ২৮ দশমিক ৮২ মিটার ও ৫১ দশমিক ৭৬ মিটার।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, উজানের ঢল ও চলমান বৃষ্টিপাতের প্রভাবে কয়েকটি নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় জেলার বিভিন্ন স্থানে নদীভাঙন দেখা দিতে শুরু করেছে। পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে।
এদিকে নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। পাশাপাশি নদীভাঙনপ্রবণ এলাকার মানুষকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।