বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২০ অপরাহ্ন

শিরোনাম
সংবাদ প্রকাশের পর কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে অসহায় তিন বোনের পাশে উপজেলা প্রশাসন আসন না পেলেও কুড়িগ্রামকে অবহেলা করা হবে না: ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বর্ণাঢ্য আয়োজনে কুড়িগ্রামে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস পালিত কুড়িগ্রামে কলেজ ছাত্রের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার কুড়িগ্রাম উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বেপরোয়া বদলি বাণিজ্য কচাকাটায় ৯৪ পিস ইয়াবাসহ এক মাদক কারবারি গ্রেফতার বিএনপিকে হেয় করতেই সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে জামায়াত : প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সত্তর বছরের পুরোনো গোলেরহাট ফাজিল (বিএ) মাদ্রাসা জাতীয়করণের দাবি স্থানীয়দের। কুড়িগ্রামে কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ, ৫৫ বছরের বৃদ্ধের বিরুদ্ধে মামলা কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলে সুবিধাবঞ্চিত পরিবারে গৃহপালিত পশু বিতরণ

ইরান ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করেছেন ওবামা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক / ৩৮ Time View
Update Time : বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২০ অপরাহ্ন

ইরান যুদ্ধ পরিচালনায় ট্রাম্প প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। ইরান যুদ্ধের মানবিক ও অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতির কথা তুলে ধরে ওবামা বলেন, বিপুল ব্যয় ও প্রাণহানির পরও যুক্তরাষ্ট্র কার্যত আগের অবস্থানেই ফিরে এসেছে; এমনকি পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।

শুক্রবার (১৯ জুন) মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে ওবামা বলেন, ‘আমরা একটি যুদ্ধ করেছি, শত শত বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছি, আমাদের সামরিক বাহিনীর ওপর বিশাল চাপ সৃষ্টি করেছি, অনেক মানুষ মারা গেছে। অথচ মনে হচ্ছে যুদ্ধ শুরুর আগের অবস্থাতেই ফিরে এসেছি বরং পরিস্থিতি হয়ত আরও খারাপ হয়েছে।’

শিকাগোতে নিজের প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরি উদ্‌বোধন উপলক্ষ্যে দেওয়া এই সাক্ষাৎকারে ইরানের সঙ্গে তার আমলে স্বাক্ষরিত পারমাণবিক চুক্তি Joint Comprehensive Plan of Action (JCPOA)-এর প্রসঙ্গও তোলেন ওবামা।

ওই প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘যুদ্ধবিরতি হয়েছে দেখে আমি খুশি এবং আশা করি এটি টিকে থাকবে। কিন্তু যুদ্ধের মূল কারণ ছিল ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখা। তখন একটি চুক্তি ছিল, যেখানে ইরান এ বিষয়ে সম্মত হয়েছিল। পরে সেই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে যাওয়ায় ইরান তার পারমাণবিক সক্ষমতা আরও বাড়ানোর সুযোগ পায়।’

যৌথ সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা হলো ২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণু ইস্যুতে স্বাক্ষরিত চুক্তি। এর মাধ্যমে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ সদস্য দেশ (যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া, চীন) ও জার্মানির (5p+1) সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করে ইরান। এই চুক্তিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নও অংশগ্রহণ করেছিল।

চুক্তির মূল উদ্দেশ্য

ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে সে জন্য তার পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর কঠোর সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়। এর বিনিময়ে ইরানের ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার বড় অংশ প্রত্যাহার করা হয়।

চুক্তির প্রধান শর্ত

১) ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম সীমিত করবে।
২) উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত কমাবে।
৩) পারমাণবিক স্থাপনাগুলো আন্তর্জাতিক পরিদর্শনের জন্য উন্মুক্ত রাখবে।
৪) আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA) নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করবে।

২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রকে এই চুক্তি থেকে বের করে নেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার অভিযোগ ছিল, চুক্তিটি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও আঞ্চলিক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ।

দিকে, যুদ্ধ শুরুর সাড়ে তিন মাস পর গত সপ্তাহে তেহরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারকে ইলেক্ট্রনিকভাবে স্বাক্ষর করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর মাধ্যমে ৬০ দিনের নতুন আলোচনা প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর লক্ষ্য সংঘাতের অবসান এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় স্বাভাবিকভাবে উন্মুক্ত করা।

তবে, চুক্তির কিছু দিক নিয়ে রিপাবলিকান দলের ভেতরেও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন তহবিল এবং ইরানের ওপর থেকে কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়টি নিয়ে আপত্তি রয়েছে।

এদিকে ট্রাম্প দাবি করেছেন, নতুন ১৪ দফা কাঠামোগত চুক্তি তার ঘোষিত লক্ষ্য ‘ইরানের নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ নিশ্চিত করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ‘আমরা মরিয়া হয়ে আলোচনায় বসিনি, ইরান বসেছে। তারা শেষ হয়ে গেছে। ৬০ দিনের প্রক্রিয়া চলবে, কিন্তু তারা কোনো অর্থ পাবে না।’

তবে, যে ১৪ দফার ভিত্তিতে ইরান-মার্কিন সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে তার ৬ নম্বর শর্তে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন তহবিলের কথা বলা হয়েছে।

৬ নম্বর শর্ত: যুক্তরাষ্ট্র ও আঞ্চলিক অংশীদাররা ইরানের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পরিকল্পনা প্রণয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর বাস্তবায়ন পদ্ধতি চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হিসেবে নির্ধারিত হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *