শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১০ অপরাহ্ন
দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় এক মিনিটেরও কম সময়ের ব্যবধানে আঘাত হেনেছে দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প। স্থানীয় সময় বুধবার (২৪ জুন) সন্ধ্যায় সংঘটিত এই জোড়া ভূমিকম্পে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও বিপুল প্রাণহানির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) আশঙ্কা করছে, পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করলে মৃতের সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথম ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭.২। এর কেন্দ্রস্থল ছিল কারাবোবো অঙ্গরাজ্যে, রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে। প্রথম কম্পনের মাত্র ৩৯ সেকেন্ড পর আরও শক্তিশালী ৭.৫ মাত্রার দ্বিতীয় ভূমিকম্প আঘাত হানে, যা আতঙ্ক ও ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
এখনও পর্যন্ত হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া না গেলেও বিভিন্ন এলাকা থেকে ভবন ধসে পড়া, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন এবং বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়ার খবর আসছে।
ইউএসজিএসের প্রাথমিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দ্বিতীয় ভূমিকম্পটির কারণে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটার ঝুঁকি রয়েছে। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, ১০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যুর সম্ভাবনা ৪৪ শতাংশ এবং এক লাখেরও বেশি মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা প্রায় ৩০ শতাংশ।
রাজধানী কারাকাসসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলে প্রবল কম্পন অনুভূত হয়েছে। আতঙ্কে হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে খোলা স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধারকর্মীরা দিনরাত তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনগণকে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ও বাড়িঘর ত্যাগ করে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সম্ভাব্য আফটারশকের বিষয়ে সতর্ক করে জরুরি নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ভেনেজুয়েলার সাম্প্রতিক ইতিহাসে এটি অন্যতম ভয়াবহ ভূমিকম্পে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধার অভিযান ও ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র প্রকাশ পেলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।