বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২৯ অপরাহ্ন
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে এফআইআরভূক্ত আসামী ধরে ছেড়ে দিলেন এসআই মোফাখখারুল। আসামী ধরতে ১৫ হাজার টাকা নিয়ে আসামী ধরতে যান এসআই মোফাখখারুল। আসামী ধরে থানার চত্ত্বরে নিয়ে আসলে ওসি আব্দুলাহিল জামানের নির্দেশে অদৃশ্য কারণে বিবাদীর কাছে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে সেই আসামীকে ছেড়ে দেন তিনি। এমন অভিযোগ করেছেন মামলার বাদী। থানা চত্ত্বর থেকে আসামী ছেড়ে দেয়ার ঘটনা নজিরবিহীন বলছেন স্থানীয়রা। আসামী ছেড়ে দেয়ার বিষয়টি জানাজানি হলে ঘটনা ধামাচাপা দিতে বিভিন্ন মহলে তৎপরতা চালান ওসি আব্দুলাহিল জামান।
জানা গেছে, ৩০ জুলাই চর বেরুবাড়ী গ্রামে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে আহমাদুল হক ও তার পরিবারের উপর হামলা চালায় স্থানীয় মাদকসেবী আল আমিন ব্যাপারী ও তার সহযোগীরা। এতে আহত হন মামলার বাদী আহমাদুল ও তার চাচাতো ভাই মো. মোজাহিদ হক। পরে এ ঘটনায় বাদী হয়ে ৪ আগস্ট কুড়িগ্রাম কোর্টে অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। পরে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় বিজ্ঞ আদালত তিন কার্যদিবসের মধ্যে এফআইআর হিসেবে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নাগেশ্বরী থানাকে নির্দেশ প্রদান করেন। পরবর্তীতে বাদীর অভিযোগ প্রাপ্তির পর ৭ আগস্ট মামলা এফআইআর হিসেবে রেকর্ড করে। যার মামলা নং-১৫, জিআর নং-২০৯/২৬ (নাগেশ্বরী), ধারা-৩৪২, ৩২৩, ৩২৫, ৩২৬, ৩০৭, ৩৭৯, ৫০৬(২),৩৪। ওইদিন মামলা রেকর্ড ও প্রধান আসামীকে গ্রেফতারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ১৫ হাজার টাকা উৎকোচ নেন নাগেশ্বরী থানার এসআই মোফাখখারুল। (এসআই’র টাকা গ্রহণের সমস্ত প্রমাণ এই প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত)।
মামলার বাদী আহমাদুল হকের অভিযোগ, “পুলিশ আসামীকে কোর্টে চালান না দিয়ে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে গ্রেফতারকৃত আসামী আল আমিনকে ছেড়ে দেয়। তিনি আসামী গ্রেফতার তো দুরের কথা উল্টো সাজানো মামলায় দফায় দফায় পুলিশ দিয়ে হয়রানির করার চেষ্টা করছে।
আসামী আল আমিন থানা থেকে এসে আমি ও আমার পরিবারকে মাদক দিয়ে ফাঁসিয়ে দিবে মর্মে হুমকি দিচ্ছেন।”
স্থানীয় সুজাব উদ্দিন, জামাল উদ্দিন, আতাউরসহ আরো অনেকে বলেন, বিবাদী ছাড়া পেয়ে সাজানো মামলায় বাদী ও তার পরিবারকে হয়রানির করার চেষ্টা করছে। টাকার বিনিময়ে বাদীকে ছেড়ে দেয়ার ঘটনাটি উপজেলাজুড়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। পুলিশ এখন জনগণের না, টাকা যে দিকে পুলিশ সেদিকে।
এ ব্যাপারে নাগেশ্বরী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি তদন্ত) মো. আতিকুর রহমান জানান, “আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। ওসির স্যারের বিদায় অনুষ্ঠান চলছে।
এফআইআরভূক্ত আসামীকে গ্রেফতারের পর ছেড়ে দেয়ার এখতিয়ার আছে কিনা এমন প্রশ্নে-তিনি বলেন-“আপনি থানায় আসেন সরাসরি কথা বলি, মোবাইলে কোন কথা বলতে পারবো না।
এ বিষয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (নাগেশ্বরী সার্কেল) মো. গোলাম মোর্শেদকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এটা ঘুষখোর নিকৃষ্ট পুলিশ, যাআইন বিরোধী