রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১০:২৭ অপরাহ্ন
কুড়িগ্রামের উলিপুরে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আরডিআরএস বাংলাদেশ (RDRS Bangladesh)-এর এক গ্রাহকের ব্যক্তিগত ও ঋণসংক্রান্ত তথ্য ফাঁস হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ওই তথ্য ব্যবহার করে একটি প্রতারকচক্র নিজেকে আরডিআরএস উলিপুর শাখার কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে এক নারী গ্রাহকের কাছ থেকে ১৩ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে গ্রাহকের তথ্য ফাঁসের অভিযোগ অস্বীকার করেছে আরডিআরএস কর্তৃপক্ষ।
থানায় দায়ের করা অভিযোগ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার হোকডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা মোছা. শিউলি বেগম আরডিআরএসের উলিপুর শাখায় ২ লাখ টাকা ঋণের জন্য আবেদন করেন। আবেদন যাচাইয়ের অংশ হিসেবে মাঠকর্মী কমল, শাখা ব্যবস্থাপক মোহসিন আলী এবং এরিয়া ম্যানেজার মনোরঞ্জন রায় তার বাড়িতে গিয়ে তদন্ত করেন। তদন্ত শেষে তাকে ১৯ জুলাই শাখা কার্যালয়ে যেতে বলা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, ১৯ জুলাই সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে মাঠকর্মী কমল তাকে ফোন করে দুপুর ১২টা থেকে ১টার মধ্যে অফিসে যেতে বলেন। কিছুক্ষণ পর একটি নাম্বার থেকে এক ব্যক্তি নিজেকে আরডিআরএসের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে তার ঋণের পরিমাণ, সঞ্চয়ের পরিমাণ, তদন্তের তারিখ এবং কোন কর্মকর্তারা তদন্তে গিয়েছিলেন—এসব তথ্য হুবহু জানিয়ে দেন।
পরে ওই ব্যক্তি জানান, ২ লাখ টাকার ঋণের বিপরীতে সমপরিমাণ মৃত্যু বীমা যুক্ত করতে হবে। এজন্য মোট ৪ লাখ টাকার বিপরীতে ৪০ হাজার টাকা সঞ্চয় থাকতে হবে। তার হিসাবে ২৯ হাজার টাকা থাকায় আরও ১১ হাজার টাকা এবং ফরম ও অন্যান্য খরচ বাবদ ২ হাজার টাকা, মোট ১৩ হাজার টাকা দ্রুত পাঠাতে বলেন। ফোনে দেওয়া তথ্য তার ঋণ আবেদন ও হিসাবের সঙ্গে পুরোপুরি মিলে যাওয়ায় তিনি বিষয়টি বিশ্বাস করে দুই দফায় টাকা পাঠিয়ে দেন।
পরে শাখা কার্যালয়ে গিয়ে বিষয়টি জানালে কর্মকর্তারা জানান, এ ধরনের কোনো নির্দেশনা আরডিআরএস থেকে দেওয়া হয়নি। তখন তিনি প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারেন।
এ বিষয়ে আরডিআরএসের মাঠকর্মী কমল বলেন, “ঘটনাটি সত্যিই বিস্ময়কর। প্রতারকচক্র কীভাবে এত বিস্তারিত তথ্য পেল, সেটি তদন্তের বিষয়। আমি ব্যক্তিগতভাবে কোনো গ্রাহকের তথ্য কাউকে দিইনি।”
শাখা ব্যবস্থাপক মোহসিন আলী বলেন, “অফিস থেকে কোনো গ্রাহকের তথ্য বাইরে দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। যে নম্বর থেকে ফোন করে টাকা নেওয়া হয়েছে, সেটি আমাদের অফিসের কারও নয়।”
এরিয়া ম্যানেজার মনোরঞ্জন রায় বলেন, “আমি ও শাখা ব্যবস্থাপক গ্রাহকের বাড়িতে তদন্তে গিয়েছিলাম। প্রতারণার ঘটনায় গ্রাহকের তথ্য ফাঁস হয়ে থাকলে সেটি অনলাইন মাধ্যম থেকেই হয়ে থাকতে পারে।”
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিউলি বেগম মাঠকর্মী কমল, শাখা ব্যবস্থাপক মোহসিন আলী এবং এরিয়া ম্যানেজার মনোরঞ্জন রায়ের নাম উল্লেখ করে উলিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কমল কিশোর ঘোষ বলেন, “এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
ঘটনায় গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য কীভাবে প্রতারকদের হাতে পৌঁছেছে, তা নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রতারণা রোধে গ্রাহকের তথ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।