রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:৫৫ অপরাহ্ন
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী পৌরসভার প্রায় অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন একটি সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে নিম্নমানের নির্মাণকাজের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় প্রকল্পের বিল স্থগিত করেছে প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক এইচ এম খোদাদাদ হোসেন জানিয়েছেন, নির্ধারিত মান অনুযায়ী পুনরায় কাজ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কোনো বিল পরিশোধ করা হবে না।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, পয়ড়াডাঙ্গা বাজারসংলগ্ন বিসমিল্লাহ অটো রাইস মিল থেকে ভুষারখাল ব্রিজ পর্যন্ত ৫৯৬ মিটার এবং বিসি রোড থেকে মিন্টু কাউন্সিলরের বাড়ি পর্যন্ত ১১০ মিটার সড়কে কার্পেটিংয়ের কাজের দায়িত্ব পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এসটি এন্টারপ্রাইজ। প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পের কাজ চলাকালে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং কাজের মান নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দেয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তে সাংবাদিক পরিচয়ে স্থানীয় রফিকুল ইসলাম মাঠপর্যায়ে পুরো কাজ পরিচালনা করেছেন। পাশাপাশি নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে এলাকাবাসী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।

অভিযোগের ভিত্তিতে ইউএনও এইচ এম খোদাদাদ হোসেন প্রকল্প এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর তিনি পৌর প্রকৌশলীকে প্রকল্পের বিল স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে ত্রুটিপূর্ণ অংশ নির্ধারিত মান অনুযায়ী পুনর্নির্মাণের জন্য ঠিকাদারকে নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া হয়।
এদিকে বিষয়টি জানার পর কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলামও প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি নির্মাণকাজে অনিয়মের সত্যতা পেয়ে ত্রুটিপূর্ণ অংশ পুনর্নির্মাণ এবং কাজের গুণগত মান নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো বিল ছাড় না দেওয়ার নির্দেশনা দেন।
সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, “আমি সরেজমিনে গিয়ে অনিয়মের সত্যতা পেয়েছি। তাই নির্ধারিত মান অনুযায়ী নতুন করে সড়ক নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত কোনো বিল পরিশোধ না করতে পৌর প্রকৌশলী ও ইউএনওকে বলেছি।”

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এসটি এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী শহিদুল ইসলাম বলেন, “আমার ঠিকাদারি লাইসেন্স ব্যবহার করে রফিকুল সাংবাদিক টেন্ডার পেয়েছেন। এ কাজের জন্য আমি কোনো কমিশন পাইনি। প্রথম ধাপের বিল উত্তোলন করা হয়েছে বলে শুনেছি। অনিয়মের বিষয়ে জানতে হলে রফিকুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলতে হবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক এইচ এম খোদাদাদ হোসেন বলেন, “সরেজমিনে গিয়ে নির্মাণকাজে অনিয়মের সত্যতা পেয়েছি। তাই নির্ধারিত মান অনুযায়ী পুনরায় কাজ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত প্রকল্পের বিল স্থগিত থাকবে। সরকারি অর্থে বাস্তবায়িত প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্পে গুণগত মান নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব। কাজের মান নিশ্চিত হওয়ার পরই কেবল বিল পরিশোধ করা হবে।”
প্রশাসনের এ পদক্ষেপে স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তাদের প্রত্যাশা, দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সরকারি অর্থে বাস্তবায়িত প্রকল্পে যেন ভবিষ্যতেও গুণগত মান নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকে।