বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫০ অপরাহ্ন

শিরোনাম
যুবকরা মাদকাসক্ত হয়েছিল বিগত সরকারের আমলে সংবাদ প্রকাশের পর কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে অসহায় তিন বোনের পাশে উপজেলা প্রশাসন আসন না পেলেও কুড়িগ্রামকে অবহেলা করা হবে না: ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বর্ণাঢ্য আয়োজনে কুড়িগ্রামে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস পালিত কুড়িগ্রামে কলেজ ছাত্রের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার কুড়িগ্রাম উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বেপরোয়া বদলি বাণিজ্য কচাকাটায় ৯৪ পিস ইয়াবাসহ এক মাদক কারবারি গ্রেফতার বিএনপিকে হেয় করতেই সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে জামায়াত : প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সত্তর বছরের পুরোনো গোলেরহাট ফাজিল (বিএ) মাদ্রাসা জাতীয়করণের দাবি স্থানীয়দের। কুড়িগ্রামে কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ, ৫৫ বছরের বৃদ্ধের বিরুদ্ধে মামলা

রাজারহাট থানায় ‘চার্জশিট বাণিজ্য’র অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার / ৩৬ Time View
Update Time : বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫০ অপরাহ্ন

কুড়িগ্রামের রাজারহাট থানায় পুলিশের তদন্ত নিয়ে উঠেছে গুরুতর জালিয়াতির অভিযোগ। বাদী ও এজাহারভুক্ত সাক্ষীদের কারও জবানবন্দি না নিয়েই আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিলের অভিযোগ উঠেছে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। অভিযোগ, সাক্ষীদের নামে ভুয়া ১৬১ ধারার জবানবন্দি তৈরি করে মামলাকে দুর্বল করার পাশাপাশি তড়িঘড়ি করে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় রাজারহাট থানায় দীর্ঘদিনের কথিত ‘চার্জশিট বাণিজ্য’র অভিযোগ নতুন করে সামনে এসেছে।
গত ২৯ মার্চ সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন রাজারহাট প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক ও দৈনিক ইত্তেফাকের উপজেলা প্রতিনিধি আরিফুল ইসলাম। তাঁর অভিযোগ, উপজেলা বিএনপির বহিষ্কৃত আহ্বায়ক আনিছুর রহমানের ছেলে সোহেল আনিছ পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাঁর ওপর হামলা চালান। ঘটনার দিনই রাজারহাট থানায় মামলা করেন তিনি। মামলাটির নম্বর-১৭।
কিন্তু মামলার বাদী ও এজাহারভুক্ত সাক্ষীদের সঙ্গে কথা না বলেই মাত্র ২৫ দিনের মধ্যে আদালতে চার্জশিট দাখিলের অভিযোগ উঠেছে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আতিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে। মামলায় চারজন সাক্ষী থাকলেও তাঁদের কারও জবানবন্দি নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছেন সাক্ষীরা। অথচ মামলার নথিতে তাঁদের নামে জবানবন্দি থাকার অভিযোগ সামনে এসেছে।
মামলার ১ নম্বর সাক্ষী গোলাম রব্বানী বলেন, ‘তদন্তকারী কর্মকর্তা আমার সঙ্গে কোনো দিন কথা বলেননি। অথচ কাগজে-কলমে আমার নামে জাল স্বাক্ষর দিয়ে জবানবন্দি তৈরি করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।’
অপর সাক্ষী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘২৯ মার্চের ১৭ নম্বর মামলার অন্যতম সাক্ষী আমি। কিন্তু পুলিশের কোনো কর্মকর্তা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। অথচ আমার নামে ভুয়া জবানবন্দি দেখিয়ে দুর্বল ধারায় চার্জশিট দেওয়া হয়েছে।’
ভুক্তভোগী সাংবাদিক আরিফুল ইসলামের অভিযোগ, ‘রাজারহাট থানায় দীর্ঘদিন ধরে কথিত চার্জশিট বাণিজ্যের যে গুঞ্জন শুনে আসছি, এবার নিজেই তার ভুক্তভোগী হলাম। আমার মামলার তদন্তে কীভাবে সাক্ষীদের জবানবন্দি ছাড়াই চার্জশিট দেওয়া হলো, সেটিই বড় প্রশ্ন। একজন পেশাদার সাংবাদিকের মামলায় যদি এমন ঘটনা ঘটে, তাহলে সাধারণ মানুষ পুলিশের তদন্তের ওপর কতটা আস্থা রাখবে?’
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আতিকুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাক্ষাতে বক্তব্য দেওয়ার কথা জানান। পরে থানায় গিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলতে চাইলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞার কথা বলে তিনি কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

রাজারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামুনুর রশীদের কাছে মামলার তদন্তে জালিয়াতি ও কথিত ‘চার্জশিট বাণিজ্য’র অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “চার্জশীট দ্রুটিযুক্ত বা অসঙ্গতিপূর্ণ মনে হলে বাদী নারাজি দিতে পারে। পুলিশের নামে চার্জশীট বাণিজ্যের ঁাভিযোগ সঠিক নয়।”

সাংবাদিকের মামলায় সাক্ষীদের জবানবন্দি না নিয়েই চার্জশিট দাখিল, সাক্ষীদের নামে ভুয়া জবানবন্দি তৈরির অভিযোগ এবং তদন্ত কর্মকর্তার বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি—সব মিলিয়ে রাজারহাট থানার তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন। অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক ও সাক্ষীরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *