বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৩ অপরাহ্ন
টানা বর্ষণ আর উজান থেকে নেমে আসা ঢলে কুড়িগ্রামের নদ-নদীগুলো আবারও ফুলে-ফেঁপে উঠতে শুরু করেছে। ধরলা, দুধকুমার, ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তার পানি সারাদিন ধরে ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার দুয়ারে অবস্থান করছে। এতে জেলার চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। পানি ঢুকতে শুরু করেছে বসতভিটা, গ্রামীণ সড়ক ও ফসলি জমিতে। পানি উন্নয়ন বোর্ড আশঙ্কা করছে, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জেলার প্রধান নদ-নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে।
জেলার বৃহৎ নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে দ্বিতীয় দফা বন্যার পানিতে আমন বীজতলা, পাট, সবজি ক্ষেত তলিয়ে গেছে। প্রথম দফা বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে না উঠতে আবারো আমন ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে অনেক কৃষক।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের সোমবার (২০ জুলাই) বিকেল ৩টার তথ্য অনুযায়ী, ধরলা পানি নদীর তালুক শিমুলবাড়ী পয়েন্টে ৯ সেন্টিমিটার পানি বেড়ে ৩০ দশমিক ২৮ মিটারে পৌঁছেছে, যা বিপদসীমার ৫৯ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে।
দুধকুমার নদীর পাটেশ্বরী পয়েন্টে দিনের ব্যবধানে সবচেয়ে বেশি ২০ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়ে ২৯ দশমিক ২৫ মিটারে উঠেছে। সেখানে বিপদসীমার মাত্র ৩৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
ব্রহ্মপুত্র নদের চিলমারী পয়েন্টে ৩ সেন্টিমিটার বেড়ে ২২ দশমিক ৮০ মিটার রেকর্ড করা হয়েছে। তিনটি পয়েন্টেই পানি বিপদসীমার নিচে থাকলেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে তিস্তা নদীর কাউনিয়া পয়েন্টে ৭ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়ে ২৮ দশমিক ৯৭ মিটারে পৌঁছেছে, যা বিপদসীমার মাত্র ৩৪ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে।
এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৩৮ দশমিক ৮ থেকে ৫০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। উজানের ঢলের সঙ্গে এই বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলে পানি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান বলেন, “আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জেলার বৃহৎ নদ-নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। নদীতীরবর্তী অঞ্চলে বসবাসরত মানুষদের সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রস্তুত রয়েছে।”
এদিকে নদীর পানি বাড়তে থাকায় চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, উজানের ঢল ও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে জেলার বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এটিএম বেনজির রহমান জানান, “বন্যার পূর্বাভাস অনুযায়ী ইতোমধ্যে ১০০ মে.টন চাল, নগদ ৫ লাখ টাকা এবং ৫৩৪ প্যাকেট শুকনো খাবার প্রস্তুত রাখা হয়েছে।