বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৭ অপরাহ্ন
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নের শালঝোড় ঘাট এলাকায় ভারতীয় গরু চোরাচালানবিরোধী অভিযান চালিয়ে দুটি ভারতীয় গরুসহ তিনজন চিহ্নিত চোরাকারবারিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শালঝোড় ঘাট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ভূরুঙ্গামারী পুলিশ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজিম উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
অভিযান চলাকালে আটটি গরুসহ চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। তারা হলেন—আশরাফুল আলম (৩৭), আল আমিন (৩০), নুর নবী (২৫) ও সবুজ (২১)। তাদের সবার বাড়ি শালঝোড় ও ধলডাঙ্গা এলাকায়।
পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদ ও যাচাই-বাছাইয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়, আটটি গরুর মধ্যে দুটি কালজানি ঘাট এলাকার কাজিয়ার চর সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারত থেকে বাংলাদেশে আনা হয়েছে। বাকি ছয়টি গরুর বৈধ মালিকানা নিশ্চিত হওয়ায় সেগুলো মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের ভবিষ্যতে সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরু অবৈধভাবে দেশে প্রবেশ না করানোর বিষয়ে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
তদন্তে আরও জানা যায়, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজনের কাছ থেকে ভারতীয় চোরাই মোবাইল ফোন ও সচল ভারতীয় সিমকার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে ভারতীয় গরু ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের তথ্য-প্রমাণও পাওয়া গেছে।
এসব তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তিনজনকে গ্রেফতার দেখিয়ে তাদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। জব্দ করা দুটি ভারতীয় গরুর বিষয়ে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজিম উদ্দিন জানান, যাচাই-বাছাই শেষে তিন চিহ্নিত চোরাকারবারির বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করা হয়েছে এবং দুটি ভারতীয় গরু জব্দ করা হয়েছে।
এদিকে, ভূরুঙ্গামারী পুলিশ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন বলেন, শালঝোড় এলাকা অবৈধভাবে ভারতীয় গরু প্রবেশের অন্যতম রুট হওয়ায় সেখানে পুলিশের নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় গরু চোরাচালানসহ সব ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।