বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৫ অপরাহ্ন
কুড়িগ্রামের কৃতী শিক্ষার্থী অনুশ্রী রায় (গুড়িয়া) জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ প্রতিযোগিতায় অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে। দেশাত্মবোধক গানে সারা দেশে প্রথম এবং নজরুল গীতিতে তৃতীয় স্থান অর্জন করে সে কুড়িগ্রাম জেলা, রংপুর বিভাগ ও দেশের জন্য গৌরব বয়ে এনেছে।
এই সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ আয়োজিত অনুষ্ঠানে অনুশ্রী রায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের হাত থেকে পুরস্কার ও সম্মাননা গ্রহণ করে।
জাতীয় পর্যায়ে পৌঁছানোর আগে ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে ধারাবাহিকভাবে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে অনুশ্রী। গত ১৬ জুন ঢাকায় অনুষ্ঠিত জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬-এর চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে দেশাত্মবোধক গানে প্রথম এবং নজরুল গীতিতে তৃতীয় স্থান অর্জন করে সে।
বর্তমানে অনুশ্রী রায় রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার পূর্ব নবনীদাস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী। তার জন্ম কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার হাপারভিটা মণ্ডলের হাট এলাকায়। শৈশবের একটি বড় সময় কেটেছে ঢাকার স্বামীবাগ আশ্রমসংলগ্ন এলাকায়। শিক্ষাজীবনের শুরু কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার আদিনাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। পরে মায়ের কর্মস্থল পরিবর্তনের কারণে পরিবার রংপুরে চলে গেলে সেখানেই তার পড়াশোনা ও সাংস্কৃতিক চর্চা অব্যাহত থাকে।
ছোটবেলা থেকেই গান, নাচ, অভিনয়, আবৃত্তি ও ভাগবত পাঠের প্রতি ছিল তার গভীর আগ্রহ। কক্সবাজারের ‘সৃজন সংগীত ভুবন’-এ প্রশিক্ষক প্রিয়া দত্তের তত্ত্বাবধানে সংগীতে তার হাতেখড়ি হয়। পরবর্তীতে রতন কুমার সরকার ও পুষ্পজিত রায়ের কাছ থেকেও সংগীতের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও দিকনির্দেশনা পেয়েছে।
এরই মধ্যে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছে অনুশ্রী। জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৫-এর জাতীয় পর্যায়ে তৃতীয় স্থান অর্জনের পাশাপাশি ‘নতুন কুঁড়ি’সহ বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক সাংস্কৃতিক আয়োজনে অংশ নিয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছে।
অনুশ্রীর মা মনিকা রায় বলেন, “মেয়ের এই অর্জনে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। তার শিক্ষক-শিক্ষিকা, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং যারা সবসময় উৎসাহ দিয়েছেন, সবার প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। সবাই তার জন্য আশীর্বাদ করবেন, যাতে ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্য অর্জন করতে পারে।”
সঙ্গীত প্রশিক্ষক প্রিয়া দত্ত বলেন, “অনুশ্রী অত্যন্ত মেধাবী, নিষ্ঠাবান ও পরিশ্রমী। জাতীয় পর্যায়ে তার এই সাফল্য দীর্ঘদিনের সাধনা ও কঠোর পরিশ্রমের ফল। তার এই অর্জনে আমরা সবাই গর্বিত।”
অনুশ্রীর বাবা কমল কান্তি রায় বলেন, “মেয়ের এই সাফল্যে আমরা গর্বিত। সে যেন ভবিষ্যতে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে, সেজন্য সবার আশীর্বাদ কামনা করছি।”
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জাতীয় পর্যায়ে দেশাত্মবোধক গানে প্রথম এবং নজরুল গীতিতে তৃতীয় স্থান অর্জনের মাধ্যমে অনুশ্রী শুধু তার পরিবার নয়, কুড়িগ্রাম, রংপুর বিভাগ এবং দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের জন্যও গৌরব বয়ে এনেছে। তার এই সাফল্যে শুভাকাঙ্ক্ষীরা অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেছেন।