বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৬ অপরাহ্ন
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে বড় ভাই ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে ছোট ভাইয়ের বাড়িতে হামলা, নগদ টাকা লুট এবং ছোট ভাইয়ের স্ত্রীর দুই পা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আহত গৃহবধূ বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। প্রাণনাশের আশঙ্কায় বাড়ি ছেড়ে ভাড়া বাসায় অবস্থান করছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
ঘটনাটি উপজেলার চাকিরপশার ইউনিয়নের পীর মামুদ গ্রামে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, জীবিকার তাগিদে ঢাকায় কর্মরত আব্দুল কুদ্দুসের সঙ্গে বড় ভাই ইউনুস আলী ও আবু বক্করের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এ ঘটনায় আদালতে একটি মামলাও বিচারাধীন রয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, পূর্বের মামলায় জামিন পাওয়ার পর আসামিরা মামলার খরচ বাবদ দুই লাখ টাকা দাবি করেন। কুদ্দুস টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত ৫ মে সকাল ১১টার দিকে ইউনুস আলী, সোহেল মিয়া, পারভীন বেগম, আবু বক্কর ও মেরি বেগম লাঠিসোঁটা, লোহার রড ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার বাড়িতে হামলা চালান।
হামলায় আব্দুল কুদ্দুস গুরুতর আহত হলে অভিযুক্তরা বাড়ির গেট ভেঙে ৯৪ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় বাড়িতে থাকা কুদ্দুসের স্ত্রী মল্লিকা বেগমকে মারধর করে তার দুই পা ভেঙে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
মল্লিকা বেগমের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাকে প্রথমে রাজারহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ভুক্তভোগী আব্দুল কুদ্দুস বলেন, “এক মাস ধরে স্ত্রীর চিকিৎসা করাচ্ছি। এখনও বাড়ি ফিরতে পারিনি। হুমকির মুখে রাজারহাট বাজারের শান্তিনগরে ভাড়া বাসায় থাকছি। আমার দুই ছেলের পড়াশোনাও ব্যাহত হচ্ছে। বড় ভাই ও ভাতিজারা আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ইউনুস আলী বলেন, “কুদ্দুস আমাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। আমি বিষয়টি শুনেছি।” তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কি না, সে বিষয়ে তার বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে রাজারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরে যুক্ত করা হবে।