বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২৭ অপরাহ্ন
শত বছরের জীবনের দীর্ঘ পথ পেরিয়েছেন তিনি। বয়সের ভারে নুয়ে পড়া শরীর, জীবনের শেষ প্রান্তে এসে নিত্যদিনের প্রয়োজন মেটাতেও নানা সীমাবদ্ধতা। অভাব-অনটনের সঙ্গে লড়াই করেই কাটছিল তাঁর দিন। প্রয়োজন ছিল, কিন্তু সামর্থ্য ছিল না। এমন এক অসহায় শতবর্ষী বৃদ্ধের জীবনে একটু স্বস্তির পরশ নিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন কুড়িগ্রাম জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. সোহেল রানা।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উলিপুর উপজেলার রাজরামক্ষেত্রী গ্রামের ওই বৃদ্ধের অসহায়ত্বের খবর পেয়ে তাঁর বাড়িতে ছুটে যান সোহেল রানা। সেখানে গিয়ে তিনি বৃদ্ধের পাশে বসেন, কথা বলেন, শোনেন তাঁর জীবনের কথা। খোঁজ নেন শারীরিক অবস্থা, পরিবারের পরিস্থিতি এবং প্রতিদিনের প্রয়োজনের।
শুধু খোঁজখবর নিয়েই ফিরে যাননি তিনি। বৃদ্ধের জন্য কী করলে তাঁর দৈনন্দিন জীবন কিছুটা সহজ হবে, সেটিই গুরুত্ব পেয়েছে সোহেল রানার উদ্যোগে।
বৃদ্ধের দীর্ঘদিনের প্রয়োজন বিবেচনায় তাঁর বাড়িতে একটি শৌচাগার স্থাপনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি নিরাপদ পানির সুবিধা নিশ্চিত করতে নলকূপ বাঁধাই করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বয়সের ভারে নুয়ে পড়া একজন মানুষের জীবনের শেষ সময়টুকু যেন অন্তত একটু স্বস্তিতে কাটে—এ উদ্যোগে সেই মানবিক ভাবনাটিই ফুটে উঠেছে।
সোহেল রানা বলেন, “বয়োবৃদ্ধ ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো শুধু সহযোগিতা নয়, এটি আমাদের মানবিক দায়িত্ব। আমাদের আশপাশে এমন অনেক মানুষ আছেন, যাঁদের সামান্য সহযোগিতাই তাঁদের জীবনে বড় স্বস্তি এনে দিতে পারে। ওই বৃদ্ধের প্রয়োজনের কথা জানতে পেরে তাঁর পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। সমাজের সামর্থ্যবান মানুষগুলো যদি নিজ নিজ জায়গা থেকে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ান, তাহলে অনেক মানুষের জীবনই একটু সহজ হতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, ওই বৃদ্ধের যেকোনো প্রয়োজনে ভবিষ্যতেও পাশে থাকার চেষ্টা করবেন।
সহযোগিতা পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন শতবর্ষী বৃদ্ধ ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। দীর্ঘদিনের প্রয়োজনীয় একটি শৌচাগার এবং নিরাপদ পানির ব্যবস্থা তাঁদের কাছে যেন বড় এক স্বস্তি হয়ে এসেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে সব সময় বড় আয়োজনের প্রয়োজন হয় না। একজন মানুষের প্রয়োজন বুঝে তাঁর পাশে দাঁড়ানোই বড় মানবিকতা। শতবর্ষী এই বৃদ্ধের পাশে সোহেল রানার এমন উদ্যোগ অন্য সামর্থ্যবান মানুষদেরও অসহায় ও বয়োবৃদ্ধ মানুষের পাশে দাঁড়াতে অনুপ্রাণিত করবে বলে তাঁরা আশা করেন।
এক শতবর্ষী মানুষের জীবনে সামান্য স্বস্তি এনে দেওয়ার এই উদ্যোগ তাই শুধু একটি সহযোগিতার ঘটনা নয়; বরং সমাজে ‘মানুষ মানুষের জন্য’-এই চিরন্তন বার্তাটিকে আরও একবার সামনে নিয়ে এসেছে।